বৃহস্পতিবার | ১৫ এপ্রিল, ২০২১ | ২ বৈশাখ, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > সাতক্ষীরা > আশাশুনিতে আগুনে পুড়ে বসতঘর ও ধানের গোলা ভস্মিভূত

আশাশুনিতে আগুনে পুড়ে বসতঘর ও ধানের গোলা ভস্মিভূত

আশাশুনিতে আগুনে পুড়ে বসতঘর ও ধানের গোলা ভস্মিভূত
ন্যাশনাল ডেস্ক: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের কচুয়া ঘোষ পাড়ার কার্তিক চন্দ্র ঘোষের বাড়ি আগুনে পুড়ে বসতঘর ও ধানের গোলা ভস্মিভূত হয়েছে। বুধবার বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রথমে এলাকাবাসী ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ওমর সাকী পলাশের নেতৃত্বে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। পরে জানতে পেরে আশাশুনি ফায়ার সার্ভিসের দুইটা ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থল পৌঁছানোর আগে ততক্ষণে আগুনের লেলিহান দাবালনের মতো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাতে একটি বসতঘর ও ধানের গোলা অগ্নিকাণ্ডে ভূষ্মিভূত হয়ে যায়।
এসময় কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছেত আল হারুন চৌধুরীর সহযোগিতায় এবং ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল কালাম মোড়লের নেতৃত্বে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস টিম। এ ব্যাপারে রান্নাঘরের উনুনের আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়েছে বলে ধারণা করেন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল কালাম মোড়ল।
এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অনুমানিক ৩লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করেছেন ভুক্তভোগী কার্তিক চন্দ্র ঘোষ। অন্যদিকে লোকেশান বিভ্রান্তি ঘটনার যেন পূর্ণবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলার প্রতিটি এলাকার লোকেশান এবং ডাটাবেজ ফায়ার সার্ভিসকে সংরক্ষণ করতে উর্ধতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
আশাশুনির বাঁকড়ায় সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের লক্ষ্যে মত বিনিময়
আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দকৃত সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের লক্ষ‍্যে মতবিনিময় করেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য বৃন্দদের সাথে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও শোভনালী ইউপি’র চেয়ারম্যান প্রার্থী শম্ভুজিত মন্ডল। মঙ্গলবার বিকালে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ মতবিনিময় করেন। সাবেক সফল স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাতক্ষীরা ০৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক স‍্যারের বরাদ্দকৃত এ সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের মতবিনিময়কালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ মন্ডল, ইউপি সদস্য আব্দুল গফফার, আ’লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আশাশুনিতে দীর্ঘ ১১ মাস পরে মুলবাঁধ সম্পন্ন ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্নবাসনের দাবি  

আশাশুনি সদরের দয়ারঘাটের খোলপেটুয়া নদীর ভেঙ্গে যাওয়া মূল পয়েন্টের ক্লোজার চাপান দেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘ ১১ মাস পরে বিকল্প রিং বাঁধের দুশ্চিন্তা ও লোনা পানির হাত থেকে রেহায় পেলো সদরের ৩ টি গ্রামের মানুষ। সর্বশেষ গত মঙ্গরবার (৩০ মার্চ) এই রিং বাঁধ ভেঙ্গে যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও গোলাম রাব্বি হাসান বলেন- মানুষের মানবেতর জীবন-যাপন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিতে আমরা যত দ্রুত সম্ভব বাঁধের কাজ শেষ করার চেষ্টা করেছি। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ক্লোজারে বালি ভর্তি জিও বস্তা ফেলে আটকানোর কাজ শেষ করা হয়েছে। বুধবার (৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কাজ করে আমরা বালির বস্তা দিয়ে বাঁধের ৯০ ভাগ সম্পন্ন করে দিয়েছি। এখন গোণ নেই তাই রাতে জোয়ারের পানি আর উঠবে না। বৃহস্পতিবার সকালে এই কাজ শেষ করে আমরা বাকি বরাদ্দকৃত ৫৩৫ মিটার দৈর্ঘের স্থায়ী টেঁকসই মূল বাঁধের কাজে হাত দেবো। এছাড়া জেলেখালী গ্রামের নিমতলার ২৫০ মিটার নির্মান কাজে সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকা এবং নিমতলা থেকে মানিকখালী ব্রীজ পর্যন্ত ৭০০ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য ৪১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সে কাজও শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে রিং বাঁধ ভেঙ্গে যে লোনা পানি গ্রামের ভেতর ঢুকেছিল সে পানি পুকুর বা নিচু জায়গায় সেভাবেই রয়ে গেছে। বিষাক্ত পানি আর পচা মাছের দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকা মুশকিল হয়ে গেছে। মানুষের গোসল ও রান্নার পানি নেই। দ্রুত এসব পুকুরের পানি সেঁচে নিস্কাশন করা না হলে পানিবাহিত রোগ বালাই লেগেই থাকবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হয়েছে সেই আম্পানের পর থেকেই। কারণ নদী ভাঙ্গনের ফলে দয়ারঘাট-আশাশুনি সদরের যাওয়ার প্রধান কার্পেটিংয়ের সড়কটিতে মাটি ফেলে রিং বাঁধ দেওয়া হয়। কোন গাড়ি বা ভ্যান চলাচল করতে না পারলেও রাস্তাটি ভালো ছিলো। কিন্তু গত মঙ্গলবারের ভাঙ্গনে আর শেষ রক্ষা হয়নি। ১ কি.মি. রিং বাঁধের ভেতরে ৫ জায়গায় ভেঙ্গে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পঞ্চানন বিশ্বাশের বাড়ির সামনে থেকে বলাবাড়িয়া ওয়াপদা রাস্তা পর্যন্ত ইটের সোলিংটি একেবারে ভেসে যাওয়ায় সুপেয় পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল বহনে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। দ্রুত এসব রাস্তা মেরামত করা না হলে গ্রামটি দুর্গম এলাকায় পরিনত হবে। গৃহনির্মান করে পূনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন বানভাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তান্ডবে প্রতাপনগর, শ্রীঊলার মত আশাশুনি সদরের দয়ারঘাট বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। অজ্ঞাত কারনে দীর্ঘ ১০ মাসেও বাঁধ রক্ষার কাজে হাত দেওয়া হয়নি। এলাকার একটি বড় অংশ বাইরে রেখে পিচের রাস্তা দিয়ে রিং বাঁধের মাধ্যমে বাকী এলাকাকে জোয়ারের পানির হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছিল। এ বছরের ৩০ মার্চ খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় রিং বাঁধ ভেঙ্গে পুনরায় সদর ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। অনেক পরিশ্রমের বিনিময়ে ভাঙ্গন কবলিত রিং বাঁধ রক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আজ বাধের শেষ পর্যায়ের কাজ পরিদর্শনে আসেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সাংসদ প্রতিনিধি শম্ভুজিত মন্ডল। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসিম বরণ চক্রবর্তী, আওয়ামী লীগ নেতা মোল‍্যা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ঢালী মোঃ শামসুল আলম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার বৈদ্য, খোরশেদ আলম প্রমুখ। এসময় শম্ভুজিত মন্ডল মুঠো ফোনে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, অধ্যাপক ডাঃ আফম রুহুল হক এমপিকে বাঁধের সর্বশেষ কাজ সম্পর্কে অবগত করেন।

কমেন্টস

Leave a comment

x