শুক্রবার | ২৩ এপ্রিল, ২০২১ | ১০ বৈশাখ, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > সাতক্ষীরা > আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীর রিংবাঁধ ভেঙ্গে দু’টি গ্রাম প্লাবিত

আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীর রিংবাঁধ ভেঙ্গে দু’টি গ্রাম প্লাবিত

আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীর রিংবাঁধ ভেঙ্গে দু’টি গ্রাম প্লাবিত

জিএম আল ফারুক, আশাশুনি (সাতক্ষীরা): আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় রিং বাঁধ ভেঙ্গে ফের লোনা পানি ভেতরে ঢুকে মুহূর্তের মধ্যে প্লাবিত হয়েছে আশাশুনি সদরের দুটি গ্রাম। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার টেন্ডার হলেও কাজ করতে গড়িমসি করায় এ দূর্ঘটনা হয়েছে বলে সচেতন মহলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে খোলপেটুয়া নদীর পানি ২/৩ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারে আশাশুনি টু দয়াঘাট মেইন সড়কে রিং বাঁধের প্রায় ৫ টি পয়েন্টে ভেঙ্গে পানির তোড়ে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে ঢুকে নিন্মাঞ্চল ডুবে গেছে। রাতের জোয়ারের আগেই যদি রিং বাঁধ সংস্কার করা না হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলকাবাসী। বাঁধ ভাঙার খবর শুনেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে খোঁজ খবর নেয়াসহ দ্রæত প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান সম সেলিম রেজা মিলন।
সরজমিনে ঘুরে জানা গেছে, গত আম্পানে উপজেলার দয়ারঘাট-জেলেখালি গ্রামের পাউবো’র ক্ষতিগ্রস্ত পানি রক্ষা বাঁধ নির্মানাধীন রাস্তার ছোট ছোট ৩ টি পয়েন্ট ভেঙ্গে সদরের দক্ষিনপাড়া ও দয়ারঘাট-জেলেখালী গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। একইভাবে উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়ন বাঁধ ভেঙ্গে লবন পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। একই সঙ্গে আশাশুনি বাইপাস সড়ক টু দয়ারঘাট পাউবো’র বাঁধ পর্যন্ত মেইন সড়কে রিং বাঁধ দিয়ে এসব এলাকায় জোয়ারের পানি আটকানো হয়েছিল। ৮ মাস পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত¡াবধানে বিধ্বস্ত প্রতাপনগর ও শ্রীউলা দুই ইউনিয়নে বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো হলেও অজ্ঞাত কারণে বাকি থেকে যায় সদরের দয়ারঘাট গ্রামের বাঁধটি। এ বাঁধটি নিয়ে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নানা রকমভাবে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করলেও দৃশ্যমান কোন কাজ করেননি। গত ২০ আগস্ট’২০ রিং বাঁধ ভেঙ্গে এলাকায় পানি ঢুকে এলাকা প্লাবিত হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর ইউপি চেয়ারম্যান সম সেলিম রেজা মিলনের তত্ত¡াবধানে শ্রমিক লাগিয়ে প্রায় ১০ মে.টন চাউলের কাজ করিয়ে রাস্তাটি টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু বরাদ্দের চাউল আজও পাওয়া যায়নি বলে ইউপি চেয়ারম্যান জানান। তিনি বলেন প্রত্যেক গোণে বাঁধটি মেরামত করতে সরকারিভাবে বরাদ্দের কথা বলা হলেও আসলে কিছুই দেওয়া হয়না। পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিও ব্যাগ দিয়ে তাদের দায় এড়িয়ে চলে যান। বারবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে আর কত কাজ করবে। ১ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকার বরাদ্দ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি গত গোণ থেকে যদি মুল বাঁধের কাজ করতেন তাহলে আবারও রিং বাঁধে চাপ না পড়লে ভাঙ্গতো না বলে সচেতন মহলের দাবী। তারা বাঁধের কাজ করার সকল মালামাল নিয়ে ঘটনা স্থলে পৌছেও কাজে গড়িমসি করছেন। এখন সমস্ত রিং বাঁধ চুঁইয়ে পানি ভেতরে ঢুকছে। এরই মধ্যে দয়ারঘাট ও আশাশুনি গ্রামের পিচের রাস্তা উপর দিয়ে দেওয়া রিং বাঁধের ৫টি পয়েন্ট ভেঙ্গে পানি ঢুকেছে। আশাশুনি সদরের দক্ষিন পাড়া ঋষি বাড়ীর পুলিন দাশ, নিরান দাশ ও পুজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক রনজিৎ বৈদ্যের বাড়ী সংলগ্ন রিং বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এছাড়াও মনিন্দ্র সানার বাড়ীর পাশে ভেঙ্গে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। এতে প্রায় ছোট ছোট ৫০/৬০টি মৎস্য ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়েছে এবং বোরো ধানের কয়েকটি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। রাতের জোয়ারে আগে রিং বাঁধ সংস্কার করতে না পারলে আরও বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও গোলাম রাব্বী জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করবে মুল বাঁধে। তার আগে আমাদের রিং বাঁধটি সংরক্ষন করা জরুরী। আমরা প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ দিয়েছি। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আসতে রওয়ানা হয়েছেন। এলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নদীর প্রবল জোয়ারে উপজেলার প্রতাপনগরের হরিশখালী, শ্রীউলার নাসিমাবাদ, খাজরার ৭ নং ওয়ার্ড ও গদাইপুর, আশাশুনি সদরের মানিকখালী গ্রামে রিং ও মুলবাঁধ ভেঙ্গে পানি ভেতরে ঢুকেছে। তবে বড় ধরনের কোন ক্ষতির খবর এখনও পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জনগন স্বেচ্ছাশ্রমে এ সব বাঁধগুলি সংস্কারে প্রানপন কাজ করছেন বলে দেখা গেছে।
এদিকে আশাশুনি সদরের বাজারে মরিচ্চাপ নদীর পানি রক্ষা বাঁধ না থাকায় বর্তমান বাজারের ভেতর দিয়ে প্রবাতি রাস্তাটি অত্যান্ত নীচু হওয়ায় জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভেতর দিয়ে ও দোকানের ফাক ফোকড় দিয়ে লোনা পানি ভেতরে ঢুকে থানা, আশাশুনি সরকারি হাইস্কুল সড়ক ও পুকুর প্লাবিত হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসি।

কমেন্টস

Leave a comment

x