বৃহস্পতিবার | ১৩ মে, ২০২১ | ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > featured-slider > করোনায় মৃত্যুতে নতুন রেকর্ডে কঠোর লকডাউন শুরু

করোনায় মৃত্যুতে নতুন রেকর্ডে কঠোর লকডাউন শুরু

করোনায় মৃত্যুতে নতুন রেকর্ডে কঠোর লকডাউন শুরু

অনলাইন ডেস্ক: আবারো বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে এক দিনে নতুন মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। ‘কঠোর লকডাউনের’ প্রথম দিনে ঢাকার রাস্তায় তেমন যানবাহন ও লোকজন দেখা যায়নি। অবশ্য কাঁচাবাজারের চিত্র ছিল আলাদা। কারওয়ান বাজারে ভিড় ছিল স্বাভাবিক।

গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে করোনায় ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটা এক দিনে করোনায় মৃত্যুর এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা। আর এনিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেলেন ৯ হাজার ৯৮৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার ১৮৫ জন। আর এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাত লাখ ৩১ হাজার ১৭০ জন।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে ঢাকার সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বেশির সড়কের প্রবেশ পথই অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারপরও লোকজন জরুরি প্রয়োজনে ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে বের হয়েছেন। পুলিশ যানবাহন থামিয়ে মুভমেন্ট পাস চেক করে তারপর গাড়ি ছাড়ে। তবে মুভমেন্ট পাস ছাড়াও যানবাহন দেখা গেছে। তারা বলছেন, মুভমেন্ট পাসের জন্য চেষ্টা করেও পুলিশের ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারছেন না।

ঢাকার ধানমন্ডি, পান্থপথ, কারওয়ারন বাজার, বাংলামটর, শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরে লকডাউনে কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন ও রিকশার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকার ভেতরে সিটি সার্ভিস ও ঢাকার বাইরের দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ আছে। আর ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় যারা ব্যক্তিগত যানবাহনসহ বিভিন্ন উপায়ে লকডাউনে ঢাকার বাইরের যাওয়ার এখনো চেষ্টা করছেন তারা বিপাকে পড়েছেন।

বুধবার পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ হওয়ায় সরকারি ছুটি। রোজারও প্রথম দিন। ফলে লোকজন কতটা লকডাউন মানছেন তা বুঝতে আরো দুই-এক দিন দেখতে হবে।

‘মানুষকে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে হবে’
এখন যে লকডাউন শুরু হয়েছে তা শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক মতো চললে এর সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করেন আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা: মুশতাক হোসেন। তবে সেই সুফল এখন নয়, কমপক্ষে তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। আর এখন যে সংক্রমণ ও মৃত্যু তার জন্য অন্তত তিন সপ্তাহ আগের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে এখন সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমে আসবে সেজন্য আগামী কোরবানির ঈদ পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। তবে সংক্রমণের এই যে পাগলা ঘোড়া তা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিম্নগামী হবে বলে তার ধারণা।

ডা: মুশতাক হোসেন বলেন, “একটু অপেক্ষা করুন। এর আগে এক সপ্তাহের সীমিত আকারের লকডাউন এখন যে লকডাউন শুরু হয়েছে তার সুফল পাওয়া যাবে। এটা যে বিফলে যাবে তা নয়।”

‘একটু অপেক্ষা করলে লকডাউনের সুফল পাওয়া যাবে’
তিনি বলেন, সংক্রমণের হার কমাতে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সংক্রমণ ঠেকানো কঠিন।

আর সাধারণভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান করোনা সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও বিএসএমইউর সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা: নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘৭০ ভাগ মানুষ মাস্ক পরছেন না। আর করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ৯৬ ভাগ পর্যন্ত কার্যকর তিন স্তরের মাস্ক। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে হলে যেকোনো উপায়ে মানুষকে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে হবে।’

আর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার জন্য তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত আইসিইউ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন। হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা হচ্ছে না। বেড খালি নেই হাসপাতালে।

বাংলাদেশে এখন টেস্টের বিবেচনায় করোনায় আক্রান্তের হার শতকরা ২০ দশমিক ৮৯ ভাগ। আর আক্রান্তের হিসেবে মৃত্যুর হার শতকরা ১ দশমিক ৪২ ভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার সরকারি হাসপতালগুলোতে মাত্র পাঁচটি আইডিইউ বেড খালি ছিল। ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘সংক্রমণ ঠেকিয়ে রোগী কমিয়ে আনতে না পারলে আইসিইউ বেড বাড়িয়েও পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে।’

সূত্র : ডয়চে ভেলে

কমেন্টস

Leave a comment

x