গাইবান্ধার বালাসী-বাহাদুরাবাদ নৌরুটে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ!

গাইবান্ধার বালাসী-বাহাদুরাবাদ নৌরুটে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ!

মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় পরীক্ষামূলকভাবে বালাসী-বাহাদুরাবাদঘাট নৌরুটে চালু হওয়ার প্রায় দু মাসের মাথায় এবার বন্ধ হলো লঞ্চ সার্ভিস চলাচলও। গতকাল শনিবার (৭মার্চ) সকালে দেড় শতাধিক যাত্রী নিয়ে বাহাদুরাবাদ যাওয়ার পথে নাব্য সঙ্কটে বালাসীঘাট থেকে আধাকিলোমিটার দুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ডুবোচরে আটকে যায় এমভি মোহাব্বত নামের একটি লঞ্চ। পরে লঞ্চে আটকে পড়া যাত্রীদের নৌকা ও স্পীডবোট যোগে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হয়। এর আগে গত শুক্রবার (৬মার্চ) সন্ধ্যায়তেও রিভারস্টার নামে আরেকটি লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যায়। ফলে এই রুটে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল। বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর চাপ কমানোসহ রংপুর বিভাগের ৮ জেলার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে চলতি বছরের ৮মার্চ নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বালাসী-বাহাদুরাবাদঘাট নৌ-রুটে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি লঞ্চ সার্ভিসের উদ্ধোধন করেন।

লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মেহেদী হাসান জানান, এই রুটে লঞ্চ সার্ভিস উদ্বোধনের পর থেকেই নাব্য সংকটের কারনে প্রায় সময়ই লঞ্চ বালিতে আটকে যেত। এবার এমনভাবে লঞ্চদুটি ডুবোচরে আটকে গেছে, যা ড্রেজিং ছাড়া কোনভাবেই ছাড়ানো সম্ভব নয়। এখানে লঞ্চ সার্ভিস চালু রাখতে হলে নিয়মিত ড্রেজিং ব্যবস্থা চালু থাকতে হবে। তা ছাড়া এই রুটে লঞ্চ চলাচল সম্ভব নয়।
লঞ্চের একধিক যাত্রী জানান, সড়ক পথে ঢাকা যেতে অনেক সময় লাগবে ভেবে বালাসী-বাহাদুরাবাদঘাট নদী পথে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদুর যেতেই লঞ্চটি ডুবোচরে আটকে যায়। এক যানজট থেকে বাঁচতে এটি আরও বিড়ম্বনার।

প্রসঙ্গত: ২০১৭ সালের অক্টোবরে ‘বালাসী ও বাহাদুরাবাদে ফেরিঘাটসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ওই সময়ে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মেয়াদ ধরা হয় একই বছরের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু পরবর্তীতে দুই দফায় প্রকল্প সংশোধন করে ব্যয় বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি ২ লাখ টাকা ও ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণ, বাস টার্মিনাল, টোল আদায় বুথ, পুলিশ ব্যারাক, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ব্যারাক, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, ফেরিঘাট ও ইন্টারনাল রোডসহ বেশ কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। ফেরি চলাচলে নদী ড্রেজিং কাজও সম্পন্ন হয়। কিন্তু বরাদ্দের সমুদয় অর্থ ব্যয়ের পর হঠাৎ নাব্যতা সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে নৌ রুটটি চলাচলে অনুপযোগী বলে প্রতিবেদন দেয় বিআইডব্লিউটিএর কারিগরি কমিটি।