গাইবান্ধায় দর্শক মাতালেন জেমস

গাইবান্ধায় দর্শক মাতালেন জেমস

মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা: ঈদুল ফিতরের আনন্দের সাথে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে গাইবান্ধা শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়ামের মঞ্চ কাপিয়ে দর্শক মাতালেন উপ-মহাদেশের খ্যাতিমান ব্যান্ড সংগীত শিল্পি জেমস। রোববার রাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন “পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন অব গাইবান্ধা” (পুসাগ) এর আয়োজনে, পুসাগ পরিবারের শিক্ষার্থীদের কল্যাণ তহবিল গঠনের উদ্দেশ্য আয়োজিত “কনসার্ট স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ২০২২” শিরোনামের অনুষ্ঠানে প্রধান শিল্পী হিসেবে গান গাইলেন নগর বাউল খ্যাত জেমস।

এদিন বিকেল থেকেই শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়ামে গুরু পাগল দর্শকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল মাঠ। ঘরির কাটা যখন রাত ১১ টা ছুঁই ছুই তখন, কালো টি-শার্ট ও জিনসের প্যান্ট পরে, কাঁধে গিটার ঝুঁলিয়ে মঞ্চে উঠতেই অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের লাভ ইউ গুরু’ এবং ‘জয় গুরু’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম। হরেক রকম আলোর ঝলকানির মঞ্চে গুরু শুরু করলেন ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী’ গান দিয়ে। গান শুরুর ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আন্দোলরিত মাঠ হয়ে গেল নিরব-স্তব্ধ। পরে একেরপর এক গান গেয়ে চলেন শিল্পী। তিনি গান ‘গুরু ঘর বানাইলা কী দিয়া’, ‘সুলতানা বিবিয়ানা’, দুই দিনের এক জেল’, ‘আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেব’, ‘পাগলা হাওয়ার তরে, “মাটির পিদিম” ও অন্যান্য। তখন গুরুর সাথে তরুণ-তরুণীরাও নিজেদের মতো করে নেচে-গেয়ে মাতায় দর্শক সারিও। সর্বশেষে ‘না জানি কহি ক্যাসিহে এ জিন্দেগানি’ গান দিয়ে এদিনের মতো শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়ামে গানের ইতি টানেন ব্যান্ড বাউল ফারুক মহফুজ আনাম জেমস। তবে বিশ্ব মা দিবসে জেমস এর মায়ের গানে বিশেষ মাত্রা যোগ হয় মঞ্চ ও দর্শক সারিতে।

গাইবান্ধা জেলার এসএসসি-২০১০ ব্যাচের উদ্যোগে ২০২০ সালের ৮ই আগষ্ট দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া গাইবান্ধা জেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত হয় ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন অব গাইবান্ধা” (পুসাগ)। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ পর্যন্ত গাইবান্ধার হৃদয়বান মানুষদের সহযোগিতায় মানবতার কল্যাণে ও মানসিক বিকাশে ১৯২ টি কর্মসূচী সফলভাবে সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি। এরমধ্যে এ বছর গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে সুযোগ পাওয়া ৪৭ জন অস্বচ্ছল (যাদের টাকার অভাবে ভর্তির অনিশ্চয়তা ছিল)-মেধাবী শিক্ষার্থীকে ভর্তি হতে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে সুযোগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও আর্থিক সহযোগিতা, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিবশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের ১০কি.মি. জুড়ে বিশ্বের দীর্ঘতম আলপনাও আকেন এই সংগঠনটিই। শুধু তাই নয়, বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী অবলম্বনে রচিত “চিরঞ্জীব মুজিব” সিনেমার ব্যান্ড প্রচারণার সাথে যুক্ত আছে গাইবান্ধার এই পুসাগ সংগঠনটি।

সংগঠনটির সভাপতি হুসাঈন মোহাম্মদ জিম বলেন, সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে মানবিক ও সামাজিক কাজ পরিচালনা করে আসছে। পুসাগ পরিবারের শিক্ষার্থীদের কল্যাণ তহবিল গঠন, একই সাথে গাইবান্ধার মানুষদের কিছুটা আনন্দ দিতে এই আয়োজন করেছি আমরা। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যে অর্থ আয় হবে, আয়ের পুরো অর্থই বিশ্ববিদ্যালয়ের অসহায়-দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। অনুষ্ঠান উপভোগ করতে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়-গ্যালারি ২০০ টাকা, মাঠ স্ট্যান্ডিং টিকিট ৩০০ টাকা এবং মাঠে চেয়ার টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা।