বৃহস্পতিবার | ২ জুলাই, ২০২০ | ১৮ আষাঢ়, ১৪২৭
সময় নিউজ ২৪ > গাইবান্ধা > গাইবান্ধায় পাহাড়ী ঢলে অসময়ে বন্যা, প্রায় ২০ গ্রাম প্লাবিত

গাইবান্ধায় পাহাড়ী ঢলে অসময়ে বন্যা, প্রায় ২০ গ্রাম প্লাবিত

গাইবান্ধায় পাহাড়ী ঢলে অসময়ে বন্যা, প্রায় ২০ গ্রাম প্লাবিত

মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা: কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে এবার আগাম বন্যায় গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলসহ অন্তত ২০টি গ্রাম তলিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ইতোমধ্যে হাঁস-মুরগি আর গবাদীপশু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে চরাঞ্চলের বাণভাসি শতশত মানুষ। দূর্ভোগের যেন শেষ নেই বাধে আশ্রয় নেওয়া মানুষের।
স্থানীয়দের অভিযোগ অসময়ে বালি দিয়ে যেনতেন ভাবে বাঁধের কাজ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে বাধে দেখা দিয়েছে ফাটল। বাঁধ রক্ষায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে রাতদিন কাজ করছে বলে দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
রবিবার (২৮জুন) সরেজমিনে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সোনাইল ও ওয়াবদা বাধ ঘুরে দেখা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার সৈয়দপুর ঘাট এলাকায় গতবছর বানের পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে পানি ঢুকে বালাসীঘাটের ওয়াপদা বাঁধের পূর্ব এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাঁচ গ্রামের অন্তত দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও জেলায় ৪টি উপজেলার সুন্দরগঞ্জের ৭টি ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদরের ৩টি, ফুলছড়ির ৬টি ও সাঘাটার ৩টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হেেয় ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার লোক এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। এদিকে গাইবান্ধা-বালাসীঘাট পাকা সড়কটির আধা কিলোমিটার এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় সড়কের উপর দিয়ে এখন নৌকা চলাচল করছে। সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের পনেরটি গ্রামে পানি প্রবেশ করে দেখা দিয়েছে বন্যা। পানি বন্দি হয়ে পরেছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।
বানের পানিতে তলিয়ে গেছে গাইবান্ধা-বালাসী সড়ক। এ অবস্থায় ঝুঁকির মুখে রয়েছে ওয়াপদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এরআগে বাঁধের বিভিন্ন অংশে ইদুরের করা গর্তে ভাঙন দেখা দেয়, বর্তমানে এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে পানির তোড়ে ফাঁটল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সময়মত বাঁধ সংস্কার না করায় প্রতিবছর এমন দুভোর্গের মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো জরুরি মেরামতসহ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোকলেছুর রহমান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র অনুযায়ী এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকেল তিনটায় গাইবান্ধায় ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৬৬সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি ৪১সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত আছে। আগামী দুই দিন থেকে তিনদিন আরও পানি বৃদ্ধি পেয়ে আরো কিছু এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কমেন্টস

Leave a comment