বৃহস্পতিবার | ২২ অক্টোবর, ২০২০ | ৬ কার্তিক, ১৪২৭
সময় নিউজ ২৪ > গাইবান্ধা > গাইবান্ধায় ৫ম দফা বন্যায় পানিবন্দি দেড় লাখ মানুষ 

গাইবান্ধায় ৫ম দফা বন্যায় পানিবন্দি দেড় লাখ মানুষ 

গাইবান্ধায় ৫ম দফা বন্যায় পানিবন্দি দেড় লাখ মানুষ 
মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা:  উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর গত সপ্তাহে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পলাশবাড়ী উপজেলায় করতোয়া নদী পাড়ের একাধিক স্থানে বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে পানি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই উপজেলার দেড় লাখ মানুষ। গত তিন মাসে দফায় দফায় বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী রবিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১২ টায় করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যায় পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক, স্কুল-কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমিসহ সবই এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। পরপর কয়েক দফা বন্যায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নসহ পৌরসভায় ঢুকে পড়েছে। উপজেলার চকরহিমাপুরে করতোয়ার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে গোবিন্দগঞ্জের বেশ কয়েকটি গ্রাম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বন্যায় ১৬ হাজার ১শ ২৫ হেক্টর আমন ক্ষেত, ৫শ ৫৫ হেক্টর শাক-সবজি ও ১শ ৮০ হেক্টর জমির মাশ কালাইসহ  মোট ১৬ হাজার ৮শ ৬০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গাইবান্ধার উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই প্রণোদনাসহ  সময় উপযোগী শষ্য বীজ, সার দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া কয়েক দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য রবি মৌসুমে ভুট্টা, গম, সরিষা ও পাটের বীজ দিয়ে সহযোগিতা করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এদফা বন্যায় ২শ ৫০টি পুকুরের ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চলমান বন্যায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮৮ মে.টন চাল, ৪ লাখ ৮০ হাজার নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশু খাদ্য ১লাখ গো খাদ্যে ৩ লাখ টাকাসহ ১ হাজার ৩ শ শুকনো খাবার প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন “সময়নিউজ”কে বলেন, বন্যার্তদের জন্য ৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কাজ করছেন। এছাড়া বন্যার্তদের জন্য যথেষ্ট ত্রাণ সামগ্রী মজুদের কথাও জানান জেলা প্রশাসক।

কমেন্টস

Leave a comment