বৃহস্পতিবার | ১৩ মে, ২০২১ | ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > গাইবান্ধা > চার দিনের কন্যা শিশুকে নিয়ে ঘরছাড়া সেই মা এবার আদালতে

চার দিনের কন্যা শিশুকে নিয়ে ঘরছাড়া সেই মা এবার আদালতে

চার দিনের কন্যা শিশুকে নিয়ে ঘরছাড়া সেই মা এবার আদালতে
মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা: কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার অপরাধে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে রোকসানা খাতুন নামে এক গৃহবধূকে চার দিনের শিশু সন্তানকে নিয়ে তাড়িয়ে দেয় স্বামীর পরিবার। স্বামীর পরিবার হতে বিতাড়িত সেই মা, সন্তানের পিতৃপরিচয় ও নির্যাতনের বিচার চেয়ে এবার আদালতের দারস্থ হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্বামী রাজা মিয়াকে প্রধান আসামি করাসহ রাজার মা আছমা বেগম, বাবা মহব্বর আলী, ভাই আশরাফুল ও তার বউ আইরিন বেগমকে আসামি করা হয়েছে।
রবিবার (২১মার্চ) দুপুরে গৃহবধূ রোকসানা বাদি হয়ে, তের দিন বয়সী সেই কন্যা সন্তানটিকে কোলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক আবদুর রহমানের গাইবান্ধার আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।
গত ১১ মার্চ চার দিন বয়সী কন্যা সন্তানকে নিয়ে রোকসানা বেগম স্বামীর বাড়িতে গেলে, কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় তাকে বিতাড়িত করা হয়। চার দিনের নবজাতকসহ মাকে বিতাড়িত করার খবরটির দশ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মা রোকসানা পাশে দাঁড়ায়নি স্থানীয় প্রশাসন। অথচ ইতিমধ্যে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই অমানবিক ঘটনাটি।
গৃহবধূ রোকসানা খাতুনের আইনজীবী হাসিবুল ইসলাম হ্যাপি সময়নিউজকে বলেন, ‘আমার মক্কেলকে চারদিনের শিশুবাচ্চাসহ তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এরআগে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন দুই লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে রোকসানাকে নির্যাতন করে। সেই নির্যাতনের চিহ্ন এখনো তার শরীরে রয়েছে । এছাড়া তার ছাড়পত্রও এখন আমার হাতে। এসময় মূল আসামি রোকসানার স্বামীর সঠিক বিচার হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন”।
আদালতের বারান্দায় নবজাতকে কোলে নিয়ে গৃহবধূ রোকসানা খাতুন বলেন, “মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়ে যেন আমার মতো কেউ বিতাড়িত না হয়, নির্যাতনের শিকার না হয়”।
এসময় তিনি আরো বলেন, “চারদিনের শিশু বাচ্চাটার কি দোষ? ও মেয়ে জন্য বাবার বাড়িতে স্থান পায় নাই। তিনি যদি সন্তানের পিতৃপরিচয় দিতে না পারেন তবে তার স্বামী রাজা মিয়ার ফাঁসির দাবি করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রোকসানা বেগম”।
এর আগে কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামের স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে নবজাতক ও গৃহবধূকে তাড়িয়ে দেয় স্বামীর পরিবার। ওদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নবজাতকসহ ওই মাকে উদ্ধার করলেও আশ্রয় হয়নি স্বামীগৃহে। পুলিশের সহায়তায় নিরুপায় প্রসূতি বাধ্য হয়ে নবজাতকসহ আশ্রয় নেয় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের ধনিয়ারকুড়া গ্রামের গরীব বাবা লুৎফর মিয়ার বাড়িতে।
এদিকে, দরিদ্র দিনমজুর বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে কোলের শিশুসহ রোকসানা পড়েছেন চরম বিপাকে। তার বাবার পক্ষে মেয়ে ও নাতনীর ভরণপোষণ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এখন কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে রোকসানা ও তার নবজাতকের। সেই সাথে অস্ত্রোপচারে জন্ম নেয়া শিশুটি বুকের দুধ পান না করায় তাকে বাজারের কেনা দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। মেয়ে রোকসানা ও তার নবজাতকের ভরণপোষণসহ চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে দিনমজুর এই বাবার।
রোকসানার বাবা বলেন, “কামলা দিয়ে খাই হামরা। কী করে এই সিজার করা ছোলক ফলমূল খিলাই, কী করে বাচ্চা টার দুধ জোগাড় করি। চিন্তায় যেন তার দম বন্ধ হয়ে আসে” এ অবস্থায় মেয়ের চিকিৎসা, নাতনীর বাড়তি খাবারের (দুধ) ও মামলার অর্থের যোগানের জন্য বৃত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন রোকসানার দিনমজুর বাবা।
এর আগে, বিষয়টি জানতে পেরে নিষ্ঠুর ঘটনাটি গাইবান্ধার প্রতিবেদক সরেজমিন গিয়ে তথ্যপূর্ণ সংবাদ প্রেরণ করলে, (১২ মার্চ) “কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় প্রসূতিকে তাড়িয়ে দিল স্বামীর পরিবার” শিরোনামে সংবাদ প্রচার করে পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল “সময়নিউজ২৪.কম”

কমেন্টস

Leave a comment

x