শনিবার | ৮ মে, ২০২১ | ২৫ বৈশাখ, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > দেশ ও জনপদ > “ছাত্র জীবন বড়ই সুখের যদি না থাকিত পরীক্ষা”

“ছাত্র জীবন বড়ই সুখের যদি না থাকিত পরীক্ষা”

“ছাত্র জীবন বড়ই সুখের যদি না থাকিত পরীক্ষা”
হাসান হাফিজুর রহমান: “ছাত্র জীবন বড়ই সুখের যদি না থাকিত পরীক্ষা”। কিন্তু কার কারনে সেই সুখ নষ্ট হলো? একজন ছাত্রকে কত রকম পরীক্ষা নিয়ে টেনশনে থাকতে হয় তার ইয়াত্তা নেই। সাপ্তাহিক,মাসিক, বার্ষিক, অর্ধ বার্ষিক /ষান্মাসিক পরীক্ষা, টেষ্ট, প্রি-টেষ্ট, টিউটোরিয়াল পরীক্ষা, ভর্তি পরীক্ষা, চাকুরীর পরীক্ষা, বিসিএস পরীক্ষা,,আরো কত পরীক্ষা। সারা জীবন শুধু পরীক্ষাই পরীক্ষা …!!!
কি দরকার ছিলো ঘুম আর আরাম নষ্ট করার? আরে বাবা পৃথিবীতে আবিস্কার করার মতো আরো অনেক কিছুই তো ছিলো। সেসব বাদ দিয়ে পরীক্ষাটাই আবিস্কার করতে হলো!!! পরীক্ষা এলেই ঘুম বেড়ে যেতো,, আর ঘুমে ঢুলু ঢুলু চোখে এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে হারিয়ে যেতাম ঘুমের রাজ্যে। পরদিন ঘুম ভাঙ্গতো সিলেবাস কমপ্লিট করতে না পারার টেনশন নিয়ে……
এতদিনে খুঁজে পেলাম সেই পুরাতন শত্রুকে,,
হ্যাঁ তিনি হচ্ছেন Henry A Fishel,, জন্ম ১৯১৩ সালের ২০’শে নভেম্বর জার্মানির “বন” শহরে। বাবা এডলফ ফিশেল আর মা নি সুশেন গাট। তিনি ইউনিভার্সিটি অব বার্লিন এ দর্শন শাস্ত্রে লেখাপড়া করেন। এছাড়াও তিনি গ্রিক ও হিব্রু সাহিত্যেও বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন ও এসব ভাষায় অনেক বইও লিখেছেন। ১৯৩৯ সালে তাঁকে ‘রাব্বি’ উপাধি দেওয়া হয়। হিব্রু ভাষায় রাব্বি অর্থ শিক্ষক। মুলতঃ যারা ইহুদিদের ধর্মীয় শিক্ষা দেন। এছাড়াও তিনি বেইনডেস ইউনিভার্সিটি ও ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। এতসব জায়গায় শিক্ষা দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে,” সারা বছর কে পড়াশোনা করেছে আর কে করে নাই, তা জানার জন্য বছর শেষে পরীক্ষা নেওয়ার চেয়ে ভালো কোন পদ্ধতি নাকি আর নেই”…..!!!
blank
পরীক্ষা পদ্ধতি প্রচলন নিয়ে আরো একজনের নাম আলোচিত, তিনি হচ্ছেন ফরাসী দার্শনিক Henry Michel (রঙ্গিন ছবি)। যিনি দেশে দেশে পরীক্ষা দর্শন নিয়ে বক্তৃতা করেছেন। পরীক্ষা নিয়ে তাঁর বক্তব্য হলো “কোন বিষয়ে উপসংহারে পৌছানোর পূর্বে সেই বিষয়ে বিচক্ষণতার সাথে পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত”…..!!
পরীক্ষা পদ্ধতির প্রচলনে মিসেল বা ফিসেল নয়
ইতিহাস বলছে ভিন্নকথা,,, এই পরীক্ষা পদ্ধতিও Made in China। প্রাচীন চীনে সূই সাম্রাজ্যে ( SUI Dynasty) বিভিন্ন সরকারী পদে নিয়োগ করার জন্য অধিকতর যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করা হয়। প্রায় ১৩০০ বছর ধরে চলতে থাকা এই পদ্ধতি ১৯০৫ সালে কুইং ডাইন্যাষ্টি (QING Dynasty) বিলুপ্ত ঘোষনা করে। তবে বিলুপ্তির পূর্বেই এই পদ্ধতিটি আবার ব্রিটিশ’দের মনে ধরে। ১৮০৬ সালে ইংল্যান্ডে সিভিল সার্ভিসে নিয়োগের জন্য SUI Dynasty এর অনুরুপ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরবর্তিতে সেই পদ্ধতি তাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও যুক্ত করা হয়। তারপর ব্রিটিশদের হাত ধরেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এই প….রী…..ক্ষা…..!!!
লেখক: বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির আইন প্রশিক্ষক

কমেন্টস

Leave a comment

x