বৃহস্পতিবার | ২০ জানুয়ারি, ২০২২ | ৬ মাঘ, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > গাইবান্ধা > ছিনতাই-ভাংচুর ও হামলার অভিযোগে মামলা: রেহাই পেতে পরাজিত প্রার্থীর অপপ্রচার

ছিনতাই-ভাংচুর ও হামলার অভিযোগে মামলা: রেহাই পেতে পরাজিত প্রার্থীর অপপ্রচার

ছিনতাই-ভাংচুর ও হামলার অভিযোগে মামলা: রেহাই পেতে পরাজিত প্রার্থীর অপপ্রচার

মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় ইউপি নির্বাচনে ব্যালটবাক্স ছিনতাই, ভোট কেন্দ্র ভাংচুর, নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলায় হওয়া মামলার আসামি ও হেরে যাওয়া প্রতিদন্দ্বি মেম্বার প্রার্থী আবু বক্কর মামলা থেকে বাঁচতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী মোমিনুল ইসলাম। এছাড়া তার নামে বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা-ভিত্তিহীন ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন এবং নির্বাচনি ফলাফল ওলটপালট করার ষড়যন্ত্র করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব গাইবান্ধার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি। মোমিনুল ইসলাম পঞ্চম ধাপের অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মোরগ প্রতীক নিয়ে ৫৬ ভোটের ব্যবধানে ইউপি সদস্য (মেম্বার) নির্বাচিত হন।

এর আগে ভোটের ওই দিন আনন্দবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গনণা শেষে, নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী আবু বক্কর ও তার সমর্থকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালিয়। এ সময় ব্যালট বাক্সসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাংচুর ও ছিনতাই করে নিয়ে যায়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশ ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও আনসারসহ সকল কর্মকর্তাদের আক্রমণ করে। এ ঘটনায় গত ৬ জানুয়ারী লুটপাট, ছিনতাই ও হামলার অভিযোগে ফুলছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মহসিন আলী। যাহার মামলা নম্বর ০৩। মামলায় আবু বক্করকে প্রধান আসামিসহ ৮জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

সংবাদ সম্মলনে লিখিত বক্তব্যে মোমিনুল বলেন, পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ৬নং এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডে মোরগ প্রতীক নিয়ে
মেম্বার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদন্দ্বিতা করি। নির্বাচনে দুইটি কেন্দ্রের ফলাফলে চর চৌমহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৯৫ ও আনন্দবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪১ ভোটসহ মোট ৫৩৬ ভোট পাই। অপর দিকে আমার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী টিউবওয়েল প্রতীকের আবু বক্কর চর চৌমহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পায় ৩৩ ভোট এবং আনন্দবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৪৭ ভোটসহ মোট পায় ৪৮০ ভোট। আমি আমার নিকটতম প্রতিদন্দ্বির থেকে ৫৬ ভোটের ব্যবধানে ইউপি সদস্য (মেম্বার) হিসেবে নির্বাচিত হই এবং নির্বাচন কর্মকর্তারা আমাকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষনা করে ফলাফল পত্র হাতে তুলে দেয়। কিন্তু আমার নিকটতম প্রতিদন্দ্বি প্রার্থী আবু বক্কর হেরে গিয়ে আমার প্রাপ্ত ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করাসহ আমার নামে বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে। শুধু তাই নয় সম্মানহানীসহ আমার নামে বিভিন্ন ভাবে মিথ্যে অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছে। একই সাথে নির্বাচনি ফলাফল ওলটপালট করার অশুভ চেষ্টা করে ভোটের ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যে অভিযোগ দাখিল করেছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ আমাকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছে। নির্বাচিত হওয়ার পর পরাজিত প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করাসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে আমার সম্মানহানী করছে। প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর এমন কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

 

Share this:

কমেন্টস

Leave a comment

x