বৃহস্পতিবার | ১৫ এপ্রিল, ২০২১ | ২ বৈশাখ, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > সাতক্ষীরা > দখলবাজদের কবলে কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহি জগবাড়িয়া খাল

দখলবাজদের কবলে কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহি জগবাড়িয়া খাল

দখলবাজদের কবলে কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহি জগবাড়িয়া খাল

ন্যাশনাল ডেস্ক: দখলবাজ ও ভূমিদস্যূদের কবলে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরের জগবাড়িয়া খাল। এই দখলবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় দিন দিন বেপরোয়া গতিতে খাল দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে তারা।
সরেজমিন জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে জগবাড়িয়া খাল। ভেগের হাটখোলা থেকে বামনহাট পযর্ন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খালটি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে কিছু ভূমিদস্যু। যে যার মতো করে দখল করে নিচ্ছে সরকারি খাল। এর ফলে খালটির পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দখলবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকবাসী হতাশ। স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধির চোখের সামনেই গুরুত্বপূর্ণ খাল দখল হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। রমেশ মন্ডল, সন্ন্যাসি মন্ডল, তরু মন্ডল, ভারতী মন্ডলসহ স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, জগবাড়িয়া খালটি দীর্ঘদিন যাবত উন্মুক্ত ছিল। বর্তমানে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি খালটি নিজেদের জায়গা দাবি করে যে যার মতো করে দখল করে নিচ্ছেন। এভাবে দখল হতে থাকলে খালটি অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে। তারা আরও বলেন, পূর্ব পুরুষ থেকে শুরু করে আমরা এই খালটিতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ বিঘা পরিমাণ খালের মাঝখান হতে খুঁটি পুঁতে বেড়া দেয়া হয়েছে। এই অবৈধ দখলের সাথে জড়িত রয়েছে বানিয়াপাড়া গ্রামের সাব্বান আলী শেখের দুই ছেলে সাইদুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম। খাল দখলের বিষয়টি সাইদুল ও সিরাজুলের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি আমার ঘিরে নিয়েছি। তবে রেকর্ড সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেন নি। এদিকে কৃষ্ণনগরের ৪নং ওয়ার্ডে বানিয়াপাড়া এলাকায় খালটির প্রায় ২৭ বিঘা দখল করে ২০১৩ সাল থেকে সেখানে মাছের প্রজেক্ট তৈরি করেছে স্থানীয় আজিজ শেখ। সেখানে খালটি এখন একটি সরু ড্রেনের মতো দেখাচ্ছে।
ওই দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজ শেখ বলেন, উপজেলা জলমহাল কমিটি থেকে ডিসিআর নিয়ে মাছের প্রজেক্ট করেছি।
এব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন বলেন, খাল দখলের বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হয়ে খালটিতে মাটি ভরাট করতে নিষেধ করি এবং কাজ বন্ধ করে দেই। তারপরও তারা নিষেধ অমান্য করে অবৈধ দখল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলাম জানান, খালটি যারা দখল করছে তাদের নাম ঠিকানা আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

কমেন্টস

Leave a comment

x