শনিবার | ৮ মে, ২০২১ | ২৫ বৈশাখ, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > অপরাধ ও বিচার > ধর্ষণ মামলায় কারাগারে গাইবান্ধার সেই সাংবাদিক আতিক বাবু

ধর্ষণ মামলায় কারাগারে গাইবান্ধার সেই সাংবাদিক আতিক বাবু

ধর্ষণ মামলায় কারাগারে গাইবান্ধার সেই সাংবাদিক আতিক বাবু
মাসুম বিলাহ, গাইবান্ধা: মিথ্যে বিয়ের নাটক সাজিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন বাংলাভিশন থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া গাইবান্ধার সেই আলোচিত সাংবাদিক আতিক বাবুকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। একই সাথে তার স্ত্রী শিক্ষিকা শিমুল আকতারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকেলে আমলি আদালতের (সদর) বিচারক মো. নজরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে, দুপুরে আতিক বাবু আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করলে বিচারক শুনানি শেষে জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার হওয়া মামলাসহ তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা চলমান আছে বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী।
এর আগে আতিক বাবুর বিরুদ্ধে এক সপ্তাহে হওয়া তিনটি মামলাসহ সাতটি মামলার প্রথম চুরি মামলাটি গত বছরের ২২ এপ্রিল দায়ের করেন স্বাধীন সংবাদের রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি রবিন সেন, যাহার মামলা নম্বর-৫৫। পরে ২৫ এপ্রিল চাকুরী দেওয়ার নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন বাদিয়াখালীর অন্ধ হাফেজ গোলজার রহমান, যাহার মামলা নম্বর-৬১। একই অভিযোগে ২৮ এপ্রিল মামলা দ্বায়ের করেন জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মরুয়াদহ গ্রামের শরিফা বেগম, যাহার মামলা নম্বর-৭০। ৬মে আবারো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানার গন্ডগ্রাম হিন্দুপাড়া গ্রামের প্রদীপ কুমার মোদক, যাহার মামলা নম্বর-১৫। পরে ২২ মে ছিনতাইসহ হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা দ্বায়ের করেন সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মধ্য ধানঘরা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, যাহার মামলা নম্বর-৬৪।
মামলার ঘটনা সেই সাথে কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক না হওয়ার অভিযোগ এনে একই বছরের বুধবার ২৯ এপ্রিল ১৪/৯৪৯ এর ধারা ডি মোতাবেক চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগপত্র নবায়ন না করে আতিক বাবুকে চাকরিচ্যুত করে বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে সে ফাল্গুনি টিভি নামে একটি অনলাইন টেলিভিশনে কাজ করছে। আতিক বাবু জেলা শহরের পশ্চিম পাড়ায় বাড়ি। সে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মাঠেরপাড় এলাকার হিরু মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক হয় আতিক বাবুর। পরবর্তীতে পারিবারিক সমস্যায় ওই নারীকে তালাক দেয় তার স্বামী। পরে আতিক বাবু শহরের শাপলা মিল এলাকায় ওই নারীকে বাসা ভাড়া নিয়ে দেয়। এরপর ২০১৯ সালের নভেম্বর মাস থেকে ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্টতা হয় আতিক বাবুর। এরপর আতিক বাবু ভূয়া কাবিনামা তৈরি করে বিয়ে করে বিভিন্ন সময় মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন । গত ছয় মাস আগে মেয়েটি কন্যাসন্তান জন্ম দেয়। পরে আতিক বাবুকে স্বামী দাবি করে মেয়েটি ফেসবুকে একটি পোাস্ট করেন। এরপর থেকে মেয়েটিকে হুমকিসহ সন্তানকে অস্বীকার করেন আতিক বাবু।
এ ঘটনার পর গত বছরের ২১ নভেম্বর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আতিক বাবু ও সহযোগী হিসেবে গাইবান্ধার একটি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা তার স্ত্রী শিমুল আকতারের বিরুদ্ধে মামলা করেন মেয়েটি। সেই মামলায় দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করলে বিচারক তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদিপক্ষের আইনজীবী রফিকুল আলম চঞ্চল সময়নিউজকে জানান, মামলার বাদিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ি ভুয়া রেজিষ্ট্রি করেন আসামি আতিক বাবু। পরবর্তীতে বাদি সন্তান জন্ম দিলে স্বীকৃতি না দেয়ায় ধর্ষণ মামলা করে মেয়েটি। আসামি আতিক বাবুর নামে ধর্ষণ ছাড়াও প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাত, ছিনতাই ও চুরিসহ সদর থানায় মোট সাতটি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কমেন্টস

Leave a comment

x