বৃহস্পতিবার | ১৩ মে, ২০২১ | ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > গাইবান্ধা > ধর্ষণ মামলায় জামিন : জেল হতে বেরিয়েই সেই কিশোরীকে অপহরণ 

ধর্ষণ মামলায় জামিন : জেল হতে বেরিয়েই সেই কিশোরীকে অপহরণ 

ধর্ষণ মামলায় জামিন : জেল হতে বেরিয়েই সেই কিশোরীকে অপহরণ 
মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের  ঘটনায় করা মামলায় ১৩ মাস জেল খেটে জামিনে বের হয়ে এবার ওই কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার কাপাশিয়া ইউনিয়নের ভাটিকাপাশিয়া দালালপাড়া গ্রামের ছলিম উদ্দিনের ছেলে আনারুল ইসলাম (২৯) এর বিরুদ্ধে। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ ২২ ফেব্রুয়ারি মেয়েটিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান আনারুল ও তার সহযোগীরা। তবে আনারুলের দাবি অপহরণ নয়, বিয়ে করে সংসার করছে সে। আর পুলিশ বলছে, আনারুল চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। মামলায় কয়েকবার জেলও খেটেছে অভিযুক্ত আনারুল। অপহরণের বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আনারুল গত বছরের ৭ জানুয়ারি কিশোরীকে অপহরণ করে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালীর একটি বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। খবর পেয়ে ১০ জানুয়ারি ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার এবং আনারুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই দিনই থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন কিশোরীর বাবা। এরপর থেকে কারাগারে ছিলেন আনারুল।
কিশোরীর পরিবার জানায়, ধর্ষণ মামলায় জামিন নিয়ে বের হয়ে এবার চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি কিশোরীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় আনারুল ও তার সহযোগীরা। এরপর বিয়ের কথা জানায়। কিছু বলতে গেলে কিশোরীর মা-বাবাকে হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
কিশোরীর মা সময়নিউজকে বলেন,” আনারুল আমার মেয়েকে অপহরণ করেছে। আর এখন বলছে বিয়ে করেছে। আমরা ভয়ে বেশি কিছু বলতে পারিনা। কাউকে কিছু বললে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়।”
এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে মুঠোফোনে অভিযুক্ত আনারুল ইসলাম সময়নিউজকে বলেন, “অপহরণ করিনি। সে নিজেই আমার বাড়িতে এসেছে। এখন তাকে বিয়ে করে সংসার করছি। ১৫ বছরের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে কীভাবে বিয়ে করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে আনারুল ইসলাম বলেন, আপনার এত কিছু জানার দরকার নেই।”
সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোকলেছুর রহমান সরকার বলেন, “ওই কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় জেল খেটে অস্থায়ী জামিনে আছে আনারুল। শুনেছি জামিনে বের হয়ে কিশোরীকে তুলে নিয়ে বিয়ে করেছে। তুলে নেওয়ার বিষয়ে যদি পরিবার অভিযোগ দেয় তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরো বলেন, “আনারুল তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতার হয়ে কয়েকবার জেলও খেটেছে সে।”

কমেন্টস

Leave a comment

x