মঙ্গলবার | ১১ মে, ২০২১ | ২৮ বৈশাখ, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > সিলেট > ধোপাজান ও ধামাইল নদীতে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের মহোৎসব

ধোপাজান ও ধামাইল নদীতে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের মহোৎসব

ধোপাজান ও ধামাইল নদীতে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের মহোৎসব

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদীতে চলছে বালু ও পাথর উত্তোলনকারী একটি সিন্ডিকেটচক্রের প্রতিনিয়ত নদীর পাড় কেটে বালু ও পাথর উত্তোলনের মহোৎসব । বার বার পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা নদীতে অভিযান পরিচালনা করলেও কে শুনে কার কথা। থেমে নেই নদীর পাড় কেটে বালু ও পাথর উত্তোলন। ফলে একদিকে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে রয়েছে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো আর অধিক মোনাফা নিচ্ছেন একটি বালু ও পাথর খেকোচক্র তারা অল্পদিনেই বনেছেন আঙ্গুলফুলে গলাগাছ। দিবালোকের মতো চিহ্রিত কিছু অসাধু ব্যক্তি এই করোনাকালীন সময়টাকে পুজিঁ করে সরকারের বিশাল রাজস্ব ফাকিঁ দিয়ে তারা দিনে কিংবা রাতের আধাঁরে ধোপাজান নদীতে এবং ডলুরা সীমান্তবর্তী ধামাইল চলতি নদীতে অবাধে চলছে বালু ও পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। এছাড়াও নদীর পাড়ে থাকা ভুমি মালিকের উপর অবৈধভাবে বালু উত্তলনকারী চক্রের ধারা হামলার ঘটনা ও ঘটে এবং কাসেম নামে এক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে পুলিশ আটক জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
এদিকে কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন শ্রমিদের কাছে ধুপাজান নদী উন্মুক্ত করে সরকার দিয়েছেন বলে বালু শ্রমিকদের মাঝে মিথ্যা অপপ্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পাথরখেকো বালাকান্দা গ্রামের রমজান আলী, লায়েছ মিয়ার নেতৃত্বে একটি দুষ্টচক্র নদী হতে প্রতিদিন অবৈধভাবে শতাধিক ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে শত শত বলগেট নৌকা নদীতে প্রবেশ করিয়ে কামিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
কে সেই রমজান আলী ও লায়েছ মিয়া, তাদের কুঠির জোর কোথায় তারা সরকার ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিদিন এই নদীতে চালিয়ে যাচ্ছেন লাখ লাখ টাকার অবৈধ বালু পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। তারা প্রতিদিন প্রশাসনের চোখ ফাকিঁ দিয়ে নদীতে শত শত বলগেট নৌকা প্রবেশের মাধ্যমে নৌকাগুলো বালু ও পাথর বোঝাই করে কামিয়ে নিচ্ছেন নৌকা হতেও লাখ লাখ টাকা।
স্থানীয় নদীতীরবর্তী গ্রামের অনেক মানুষজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন যদি রমজান আলী, লায়েছ মিয়া গংদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করলে ধুপাজান নদী ও ডলুরার ধামাইল চলতি নদীতে পাড় কাটা বন্ধ হবে বলেও জানান নদীর পাড়ে থাকা সাধারণ মানুষ তবে তাদের নাম না প্রকাশ করার শর্তে প্রতিবেদককে এসব তথ্যদেন সাধারণ মানুষ।
অপরদিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ডলুরা গ্রামের প্রভাবশালী পাথরখেকো মো. কাজল মিয়া,সাদেক মিয়া,আলী নুর,দিলোয়ার হোসেন,মো. সফর আলী ও মো. আব্দুস সালাম গংদের নেতৃত্বে ১০/১২জনের একটি সিন্ডিকেট চক্র সীমান্ত বাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করেই প্রতিদিন প্রকাশ্যে দিবালোকে (ধামাইল) চলতি নদী হতে সরকারের রাজস্ব ফাকিঁ দিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৩/৪শতাধিক শ্রমিকদের প্রতিজনকে দুই তিনশত টাকা মুজুরী দিয়ে অথবা ঐ সমস্ত শ্রমিকদের মাধ্যমে নদী হতে পাথর উত্তোলন করিয়ে শ্রমিকদের নিকট হতে প্রতি ফুট পাথর ৪০/ থেকে ৪৫ টাকায় খরিদ করেন এই সিন্ডিকেট চক্রটি। তারা ঐ পাথরগুলো নদীর পাড়ে কিংবা বাড়িতে মজুদ করে রাখেন। রাতের আধাঁরে ঐ সমস্ত মূল্যবান পাথর ভ্যান গাড়ি কিংবা ঠেলা গাড়ি দিয়ে স্থানীয় হালুয়ারঘাট বাজারসহ আশপাশের বাজারে কাশার দোকানে এনে প্রতি ফুট পাথর একশত ত্রিশ টাকায় বিক্রি করে অল্পদিনে আঙ্গুল ফুলে গলাগাছ বনে গেলেও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
ঐ সমস্ত অবৈধ কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসলে তাৎক্ষনিক ভাবে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমানের নির্দেশে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে ধুপাজান ধামাইল চলতি নদীতে যৌথ সাড়াশি অভিযাান পরিচালনা শুরু করা হয়। এছাড়া ও কয়েদিন ধরেই পুলিশ এসমস্ত অবৈধ বালু পাথর উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে পুলিশ প্রশাসন থেকে জানা যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সংলগ্ন ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনকারীদের বিরদ্ধে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ২৫ টি বালি ভর্তি নৌকা আটক করা হয় এবং প্রায় ২০হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয় এবং একজন অবৈধ বালু পাথর উত্তোলনকারীকে মোবাইলকোর্ট এর মাধ্যমে ১মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী আইন অমান্যকারীদের বিরদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানা যায়। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ও জানা যায়। এময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিউর রহিম জাদিদ, বিশ্বম্ভরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ সুরঞ্জিৎ তালুকদার এছাড়াও ডলুরা বিওপি কোম্পানী কমান্ডারসহ আইন শৃঙ্কলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান,ইতিমধ্যে নদীতে পুলিশের অভিযান চলছে ঐ সমস্ত বালু ও পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। যারাই নদীপথে বলগেট নৌকা ঢুকিয়ে বালু ও পাথর লোড আনলোডের কাজে নিয়োজিত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধোপাজান ও ধামাইল নদীতে অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বালু ও পাথর উত্তোলন করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

কমেন্টস

Leave a comment

x