মঙ্গলবার | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৬ আশ্বিন, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > অপরাধ ও বিচার >  নওগাঁয় বহুলালোচিত প্রতারক কামরুল আটক

 নওগাঁয় বহুলালোচিত প্রতারক কামরুল আটক

 নওগাঁয় বহুলালোচিত প্রতারক কামরুল আটক

তানভীর চৌধুরী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নিজেকে কখনো জেলা প্রশাসক (ডিসি), কখনো পুলিশ সুপার (এসপি) আবার কখনো বড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিতেন। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন জনের কাছে থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বিভিন্ন আকষর্ণীয় পেশার পরিচয় দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও ফেসবুকে একেক সময় একেক আইডি ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ২আগষ্ট/২০২১ সোমবার সন্ধ্যায় নওগাঁ জেলা পুলিশ কামরুল হাসান ওরফে সাদ্দাম (৩২) নামে ওই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে।

কামরুল হাসান ওরফে সাদ্দাম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আটুলিয়া গ্রামের কাওছার আলীর ছেলে। নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল নওগাঁ শহরের একটি অভিজাত হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারি বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়া, পদোন্নতিসহ নানা সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি। এ ছাড়া ফেসবুকে একেক সময় একেক আইডি ব্যবহার করে এবং নিজেকে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পেশার পরিচয় দিয়ে ধর্নাঢ্য পরিবারের মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন তিনি। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে এসব মেয়েদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মোঃ আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম তাঁর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, নওগাঁ জেলার এক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলে মারা যাওয়ার পর তিনি মানষিক বিষন্নতায় ভুগছিলেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মোবাইলে প্রতারক কামরুল হাসান ওই ভাইস চেয়ারম্যানকে মা সম্পর্ক বানায় এবং তার বাড়িতে যাতায়াত করতে শুরু করে। ওই ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে নিজেকে এএসপি পরিচয় দেন এবং বিশ^াস করান যে তার সাথে সরকারের উচ্চ মহলের ভালো সম্পর্ক আছে। কামরুল তাকে আগামী নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যানের টিকিট পাইয়ে দেয়ার কথা বলে গত বছরের নভেম্বরে ওই ভাইস চেয়ারম্যানের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা নেওয়ার পর কামরুল হাসান ওই ভাইস চেয়ারম্যানকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। গতকাল ওই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জানতে পারেন, প্রতারক কামরুল নওগাঁ শহরের অভিজাত একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছে। তিনি বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানান। নওগাঁ সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতারক কামরুলকে স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারের পর কামরুল প্রথমে পুলিশের কাছে নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে কামরুলের কাছ থেকে নানান চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কামরুল যশোরের ঝিকরগাছার একটি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। কামরুল অনালাইন ম্যারেজ মিডিয়া গুলোতে নিজেকে কখনো আমেরিকান সিটিজেন, কখনো অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী, কখনো ডিসি, কখনো এসপি, কখনো ডাক্তার পরিচয় দিয়ে পাত্রী খোঁজার বিজ্ঞপ্তি দেন। এরপর বিয়ে করতে ইচ্ছুক ধর্নাঢ্য পরিবারের মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তাদের সাথে শারিরীক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া নিজেকে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্নজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন।

আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, নওগাঁর আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার হওয়া কামরুলের স্ত্রী পরিচয়দানকারী ওই নারীও কামরুলের প্রতারণার শিকার হন। পুলিশের কাছে ওই নারী স্বীকার করেছেন, এক বছর আগে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে মোবাইলে ওই নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তার সাথে শারিরীক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে। পরে মেয়েটির কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে দেড় লাখ টাকা এবং স্বাক্ষরিত দুটি ফাঁকা চেক আদায় করে কামরুল। ফাঁকা ব্যাংক চেক ও শারিরীক সম্পর্কের ভিডিওর ভয় দেখিয়ে গত সোমবার মেয়েটিকে বিয়ে করতে বাধ্য করেন কামরুল।

এব্যাপারে প্রতারক কামরুলের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে নওগাঁ সদর থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া কামরুলের প্রতারণার শিকার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ চার-পাঁচজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন। এসব মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম মামুন খান চিশতী, গাজিউর রহমান, সাবিনা ইয়াসমিন, নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ।

Share this:

কমেন্টস

Leave a comment

x