রবিবার | ২৪ অক্টোবর, ২০২১ | ৮ কার্তিক, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > গাইবান্ধা > প্রকল্প ছাড়াই সাড়ে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন: দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ 

প্রকল্প ছাড়াই সাড়ে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন: দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ 

প্রকল্প ছাড়াই সাড়ে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন: দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ 
মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা: কোন প্রকল্প গ্রহণ না করেই ভূমি হস্তান্তর কর (১%) বরাদ্দের সাড়ে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ৩ নং দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনের বিরুদ্ধে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ভ্যাট ও আয়কর বরাদ্দের আড়াই লাখ টাকা নির্দেশনা সত্বেও সংশ্লিষ্ট হিসেবে জমা না দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এসব আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করে সাতদিনের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন গাইবান্ধার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রোখছানা বেগম। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রোখছানা বেগমের ওই ইউনিয়ন পরিদর্শনকালে এসব আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়ে।
চেয়ারম‌্যান স্বাধীন আওয়ামী যুবলীগের সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। তিনি গত এক বছরে ইউএনও’র কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ৫টি বেয়ারার চেকে এই টাকা তুলে নেন। অথচ বরাদ্দের এই টাকা পরিষদের ক‌্যাশ বইয়ে তোলা কিংবা ব্যাংক হিসেবেও জমা করা হয়নি। এমনকি এসব টাকার বিপরীতে মাঠ পর্যায়ে কোনও প্রকল্পের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, পরিষদের সচিব ও চেয়ারম্যানসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নামে এ‌্যাকাউন্ট পে-চেক প্রদানে এই টাকা উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইউএনও’র অফিস সহকারী আব্দুল বারির যোগসাজসে এসব টাকা তুলে নেন চেয়ারম্যান। অভিযোগ রয়েছে, পাঁচ দফায় এই টাকা উত্তোলনের ঘটনায় ইউএনও’র অফিস সহকারী আব্দুল বারি ও চেয়ারম্যান যোগসাজস করে ভাগবাটোয়ার উদ্দেশ্যে সুযোগমতো বেয়ারার চেকগুলো উপস্থাপন করেই ইউএনও’র স্বাক্ষর নেয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ভ্যাট ও আয়কর বরাদ্দের ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯২৩ টাকা নির্দেশনা সত্বেও সংশ্লিষ্ট হিসেবে জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে । যা গত ৫ সেপ্টেম্বর এলজিএসপি-৩ এর উপ-প্রকল্প পরিচালক রাহেনুল ইসলামের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩ নং দামোদরপুর ইউনিয়নে ভূমি হন্তান্তর কর (১%) বরাদ্দের মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুকূলে ৫টি বেয়ারার চেক ইন্স্যু করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে। এরমধ‌্যে ২০২০ সালের ২৬ আগষ্ট ৩ লাখ, ৪ অক্টোবর ৩ লাখ ৫০ হাজার ও ২২ ডিসেম্বর ৪ লাখ টাকার তিনটি বেয়ারার চেক দেয়া হয়। এছাড়া চলতি বছরের ৫ মে ৪ লাখ ও ৫ জুলাই দেয়া হয় আরও ৪ লাখ টাকার দুটি বেয়ারার চেক। চেক প্রাপ্তির তারিখেই সোনালী ব‌্যাংক সাদুল্লাপুর শাখায় অন‌্য গ্রাহকের হিসাব নাম্বারে চেয়ারম‌্যান স্বাধীন চেকগুলো জমা করে এসব টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দের টাকা গোপনে তুলে নেওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে পরিষদের মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।  শোকজ নোটিশ পেয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখাতে চেয়ারম্যান স্বাধীন গোপনে নিজের লোকদের টিউবয়েল ও স্প্রে মেশিন বিতরণের অভিযোগ করেন কয়েকজন ইউপি সদস‌্য।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রোখছানা বেগম জানান, ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনকালে নথিপত্র যাচাই করে যেসব তথ‌্য-উপাক্ত পাওয়া গেছে তা যথাযথ ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে জবাব দখিল করতে বলা হয়েছে। জবাবের পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এসব অভিযোগে বিষয়ে জানতে দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনের মুঠফোনে কল দিলে তিনি পরে কথা বলবেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন।
Share this:

কমেন্টস

Leave a comment

x