বৃহস্পতিবার | ২২ অক্টোবর, ২০২০ | ৬ কার্তিক, ১৪২৭
সময় নিউজ ২৪ > রকমারি > প্রতাপনগরের ১৭ গ্রামের মানুষ এখনও পানিবন্দি

প্রতাপনগরের ১৭ গ্রামের মানুষ এখনও পানিবন্দি

প্রতাপনগরের ১৭ গ্রামের মানুষ এখনও পানিবন্দি

জি,এম আল ফারুক, আশাশুনি (সাতক্ষীরা): প্রায় ৪ মাস আগে আম্পানের আঘাতে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে যায় প্রতাপনগর ইউনিয়ন। সেখান থেকে অদ্যবধি বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়নি। প্রতিদিন দিনে দুইবার জোয়ারে পানি ওঠায় এলাকা সাগরে পরিণত হয়েছে। বহুমানুষ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে মানুষের ভিতর বোবা কান্না চলছে। পয়নিষ্কাশন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। আম্পানের থাবায় চাকলা গ্রামের মাঝখান দিয়ে একটি নতুন খালের সৃষ্টি হয়েছে এবং ১টি গ্রামকে দুভাগে ভাগ করে দিয়েছে। এলাকার কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তি জানিয়েছেন ৫০ বছরেও এমন দূর্যোগ কখনও দেখিনি। প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান, আম্পানে প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকহুনিয়া পাউবোর ৩০০ হাতের মত বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়। এছাড়া হরিষখালী পাউবোর ৫০০ হাতের মত ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়। বাঁধভাঙ্গার পর এলাকার মানুষদেরকে সঙ্গে নিয়ে মেরামতের চেষ্টা করি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। প্রতাপনগরের কল্যাণপুর গ্রামের সোহরাব হোসেন (৫০), কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের মালেক সরদার (৫০), সোনাতনকাটি গ্রামের মুজিবর সানা (৬৮) ও মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ লুৎফর রহমান এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত বহুবার প্রতাপনগর ইউনিয়নে বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হতে দেখেছি। বাঁধ ভাঙ্গে আবার আমরা বাঁধ মেরামত করি। এভাবেই জীবন চলছে। আম্পানে কুড়িকাহুনিয়া ও হরিশখালী বাঁধ ভেঙ্গে প্রতাপনগরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এলাকার মানুষ বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করে বিফল হয়েছে। বর্তমানে দীর্ঘদিন ভেঙ্গে যাওয়ায় পানি ওঠানামা করায় ভাঙ্গন এরিয়া গভীর হয়েছে। এখন সরকারি বাজেট ছাড়া বাঁধ করা সম্ভব না। সরকারিভাবে হবে এমন কথা শুনে আমরা বসে থাকার কারনে এখন বাঁধ বড় হয়েগেছে। প্রতাপনগর ইউনিয়নে বিভিন্ন দলীয় কোন্দলের কারনে বাঁধ বাধতে সবাই আসে না। এখনই সবাই একত্রিত হয়ে সরকারি সহযোগিতা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লে শীতের আগেই বাঁধ মেরামত করা সম্ভব। বাঁধ না হওয়ার কারনে অসহায় হয়ে পড়েছে প্রতাপনগর ইউনিয়নের ১৭ গ্রামের মানুষ। আম্পান থেমেছে প্রায় ৪ মাস আগে। সহায় সম্বল হারানোর ভয়ে এখানকার হাজার হাজার মানুষের হৃদকম্পন থামেনি। চিংড়ী ঘের ভেসেছে, ঘরে তোলা ধান ভেসেছে। কেউ আশ্রয় নিয়েছে রাস্তার উপরে, আবার কেউ আশ্রয় নিয়েছে ভাসমান ট্রলারে। বিত্তবান থেকে নিম্নবিত্ত এখন এক কাতারে। আশাশুনির সর্বশেষ ইউনিয়নটির নাম প্রতাপনগর। আবহাওয়ার সিগনাল দিলে প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে।

blank

১৮টি গ্রাম নিয়ে আশাশুনির সর্বশেষ ইউনিয়ন প্রতাপনগর। ২৯ হাজার মানুষের বসবাস। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরের থাবায় প্রতাপনগর ইউনিয়নের সুভদ্রাকাটি, হরিসখালী ও কোলা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ২০০৯ সালের ২৫ মে কপতাক্ষের ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে চাকলা, রুইয়ারবিল, সুভদ্রাকাটি, চুইবাড়ীয়া, দিঘলারআইট, শ্রীপুর, কুড়িকাহুনিয়া ও সোনাতনকাটি গ্রামের মানুষ পানিতে ভাসে। দুই মাসেরও বেশি সময় দূর্ভোগ পোহাতে হয় এখানকার মানুষের। শ্রীপুরের ৩০টি পরিবারের ভিটেমাটি কপোতাক্ষের গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। গত ২০ মে আম্পান নামক সুপার সাইক্লোনের আঘাতে চাকলার ক্লোজার, শ্রীপুর লঞ্চঘাট, কোলা, কুড়িকাহুনিয়া সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকটি পোল্ডারের ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোনা পানি ভিতরে প্রবেশ করে ঘর বাড়ী, ঘের ভেড়ি ও ঘরে তোলা ধান লোনা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিন ২ বার জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করার কারনে এলাকার মানুষের সহায় সম্পদ হারানোর ভয়ে হৃদকম্পন শুরু হয়। আম্পানের থাবায় অনেকেই বেঁচে থানার জন্য রাস্তার উপর কুড়িঘর বেঁধে বসবাস করছে। এলাকা বাসীর দাবী ত্রাণ নয় দ্রুত বাঁধ সংস্কার চাই।

কমেন্টস

Leave a comment