বুধবার | ১২ মে, ২০২১ | ২৯ বৈশাখ, ১৪২৮
সময় নিউজ ২৪ > নাটোর > বড়াইগ্রামে কৃষি জমিতে অবাধে পুকুর খনন ‘প্রশাসনকে ডোন্ট কেয়ার’

বড়াইগ্রামে কৃষি জমিতে অবাধে পুকুর খনন ‘প্রশাসনকে ডোন্ট কেয়ার’

বড়াইগ্রামে কৃষি জমিতে অবাধে পুকুর খনন ‘প্রশাসনকে ডোন্ট কেয়ার’

অমর ডি কস্তা, নাটোর প্রতিনিধি: উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নাটোরের বড়াইগ্রামে কৃষি জমিতে চলছে অবাধে পুকুর খনন। এতে শুধু কৃষি জমিই নষ্ট হচ্ছে না, মাটি বহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টরের মোটা ও ভারী চাকায় নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক, পরিবেশের উপরেও পড়ছে বিরূপ প্রভাব। দ্রুত এ ধরণের অবাধ ও পরিকল্পনাহীন পুকুর খনন বন্ধ না হলে জলাবদ্ধতাসহ কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। কৃষি জমিতে অবাধ পুকুর খননে সংশ্লিষ্টরা প্রশাসনকে ডোন্ট কেয়ার করলেও প্রশাসনের দাবী পুকুর খনন বন্ধে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, বড়াইগ্রামের গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর খাঁ পাড়া এলাকায় মোস্তাক হোসেন দীর্ঘদিনের পুরনো খাল দখল করে এক্সকেভেটর দিয়ে পুকুর কাটছেন। একই সঙ্গে পাশের তিন ফসলী প্রায় ৫ বিঘা জমিতেও তিনি পুকুর খনন করছেন। একই ইউনিয়নের অর্জুনপুর এলাকার শাহজাহান আলী তার ৫ বিঘা জমিতে পুকুর কাটছেন। এসব পুকুরের মাটি যাচ্ছে পাশের একটি ইটভাটায়। চান্দাই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে ৬ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। একই ইউনিয়নের আকবর মোড় এলাকায় আলমের ইটভাটার পেছনে মাহতাব উদ্দিনের ১০ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। জোনাইল বাগবাচ্চা বিলের প্রায় ১২ বিঘা জমিতে পুকুর কাটছেন লোকমান হোসেন নামে এক ব্যক্তি। একইভাবে বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের চড়–ইকোল এলাকায় মাটি কাটার ঠিকাদার হায়দার আলী, মানিকপুর গ্রামে রেজাউল করিম, রাজাপুর গ্রামে আব্দুল খালেক এবং উপলশহর কিলিকমোড়ে আব্দুল আজিজ তিন ফসলী জমিতে পুকুর কেটে বাইরে মাটি বিক্রি করছেন। একই ভাবে বড়াইগ্রাম উপজেলা আটঘরিয়া, ভবানীপুর, কামারদহ, মহানন্দগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে অবাধে পুকুর খনন। কোথাও এক্সকেভেটর আর কোথাও শ্রমিক দিয়ে পুকুর কেটে এসব মাটি বিক্রি হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তিগত পর্যায়ে ও পাশাপাশি ইট ভাটায়। মাটি বহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের উপর্যুপরী যাতায়াতে ক্ষতি হচ্ছে রাস্তাঘাট, ঘটছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। ট্রাক্টর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি গাড়ীর মাটি বিক্রি হচ্ছে দূরত্ব অনুযায়ী আটশ’ থেকে এক হাজার দুইশত টাকায়। সেই সাথে গাড়ীগুলো চালাতে দেখা যায় অধিকাংশই অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক। যাদের বয়স পনের থেকে বিশের মধ্যে। এদের কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ি চালানোর কোন বৈধ কাজ কাগজপত্র নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষি জমিতে কাউকে পুকুর খনন করতে দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে অভিযান জোরদার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমেন্টস

Leave a comment

x