বুধবার | ২১ অক্টোবর, ২০২০ | ৫ কার্তিক, ১৪২৭
সময় নিউজ ২৪ > দেশ ও জনপদ > শ্যামনগরে ধর্ষণ ও সহায়তা করার মামলায় ছাত্রলীগ নেতাসহ আসামি-৩; আটক-১

শ্যামনগরে ধর্ষণ ও সহায়তা করার মামলায় ছাত্রলীগ নেতাসহ আসামি-৩; আটক-১

শ্যামনগরে ধর্ষণ ও সহায়তা করার মামলায় ছাত্রলীগ নেতাসহ আসামি-৩; আটক-১

এসএম মোস্তফা কামাল, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা): শ্যামনগর থানায় ধর্ষণ করা ও সহয়তা করার ২১ নং মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সহ ৩জনকে আসামি করা হয়েছে। থানা পুলিশ ১নং আসামি মিজানুর রহমানকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে বাদীনি দেবহাটা থানার ভাতশালা সম্মলীনি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। শ্যামনগরের দূর্গাবাটি গ্রামে নানা মৃত দলিল মল্লিক এর বাড়ীর পাশাপাশি ১নং আসামি মিজানুর রহমানের বাড়ি হওয়ায়, নানা বাড়িতে আসা যাওয়ার সুবাদে তার সাথে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। বাদিনী তাকে বিয়ের কথা বলিলে বিভিন্ন অজুহাত দেখাইতে থাকে। গত ১১অক্টোবর রাত ১১টা ৩মিনিটে মিজানুর রহমানের বন্ধু বিশ্বজিৎ একটি মোটর সাইকেল যোগে আমাকে নিতে আসলে আমি সোনার গহনা নিয়ে দেবহাটা থেকে শ্যামনগর থানার ইসমাইলপুর গ্রামস্থ গোডাউন মোড় সংল্গন মিজানুর রহমানের মোল্লা টাইলস্ নামীয় দোকানের বিশ্রাম রুমে নিয়ে যায়। সেখানে ১নং আসামি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুণরায় ধর্ষণ করে। এরপর রাতে থাকার জন্য মিজানুর রহমানের বন্ধু বিশ্বনাথ এর ভামিয়া গ্রামের তার ঘেরের বাসায় নিয়ে যায়। বাদিনী সেখানে রাত যাপন করে। পরবর্তীতে ১২ অক্টোর দুপুর ১২টার সময় মিজানুর রহমান মোটর সাইকেলে বাদিনীকে নিয়ে বংশীপুর বাসষ্টান্ডে এনে ভয়ভীতি দেখাইয়া কালিগঞ্জগামী গাড়ীতে উঠাইয়া দেয়। বাদীনি কালিগঞ্জে নেমে তার পিতা মাতাকে ঘটনাটি জানালে গত ১৩ অক্টোবর শ্যামনগর থানায় মামলা করে। অথচ ২ ও ৩নং আসামি ও তাদের পরিবার সূত্রে জান গেছে, বাদীনির সাথে আনুমানিক দেড় মাস পূর্বে বুড়িগোয়ালিনী চুনা গ্রামের আব্দুল গফফারের ছেলের সাথে বিবাহ হয়। বর্তমানে সে একজন গৃহবধূ। তারা আরও জানান মামলার ২দিন পূর্বে ১নং আসামি মিজানুর রহমান পোড়া কাটলা ব্রীজ সংল্গন দোকানে বসাছিল। সেই মুহূর্তে তার বন্ধু বিশ্বজিৎ মন্ডল ও বিশ্বনাথ মিজানের গাড়ি নিয়ে ৫২ রশির মাথায় যেয়ে ৫মিনিটে ফিরে আসে। কিছুক্ষন পর বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের মৃত আমিনুল্লাহ মোল্যার ছেলে নজরুল ইসলাম মিজানুর রহমান কে ফোনে হুমকি দিয়ে বলে যে, আমরা নেশা করছি কিনা দেখতে পাঠাইছিস এই বলে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে। পরদিন সকালে মিজানুর রহমান শ্যামনগর আসার পথে কলবাড়ী বাজারে নজরুল সহ ৪-৫জন তার পথরোধ করে গাড়ী চাবি উঠিয়ে নেয় এবং মারতে উদ্ধত হয়। এসময় ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলামের হস্তক্ষেপে ছেড়ে দেয়। এসময় নজরুল মিজানকে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। এর ১দিন পর বাদিনীর মামা ওমর আলী তাদের এক সহযোগীর সহযোগিতায় শ্যামনগর থানায় মিথ্যা মামলা করে। মিজানুর রহমান এর পিতা আলহাজ্জ্ব নজরুল ইসলাম জানান, তিনি বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। গত নির্বাচনে অল্প ভোটে পরাজয় ঘটে। তাই আমার বিরোধীপক্ষ আমার সম্মান নষ্ট করার জন্য কল্প কাহিনী ঘটনাস্থল দেখিয়ে আমার ছেলে সহ তার দুই বন্ধুকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাদিনীর পিতা শ্যামনগর থানায় দাঁড়িয়ে মামলা মিমাংসার জন্য আমার কাছে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে মামলা চলবে বলে জানান। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই খবির উদ্দীন জানান, বাদিনীর মেডিকেল করা হয়েছে, তবে এখনও রির্পোট পাওয়া যায়নি। এছাড়া আটক মিজানুর রহমান ও বাদিনীর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছি। আসামিপক্ষ মামলাটি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কমেন্টস

Leave a comment