দীর্ঘদিনের দখলকৃত সরকারি খাল পুনরুদ্ধার করলেন শ্যামনগর সদর ইউপি চেয়ারম্যান

দীর্ঘদিনের দখলকৃত সরকারি খাল পুনরুদ্ধার করলেন শ্যামনগর সদর ইউপি চেয়ারম্যান

ন্যাশনাল ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার বাবুর সাহসী ভূমিকায় দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খাল আজ সোমবার সকালে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। কাজটি কঠিন হলেও জনস্বার্থে চেয়ারম্যান আপোষহীন হওয়ায় সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে কাজটি সম্পন্ন করায় প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

এলাকাবাসী জানান, শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের জনবহুল নকিপুর হাট বাজার ও পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাষনের জন্য একমাত্র খালটি শ্যামনগর হাসপাতালের পিছন দিয়ে নকিপুর হাটবাজার সংলগ্ন হয়ে নকিপুর হরিচরন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম আকবর কবীর ও নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক রবিন্দ্র বিশ্বাসের বাড়ির সীমানা ঘেঁষে শ্যামনগর সদরের রড, সিমেন্ট ব্যবসায়ী খাইরুজ্জামানের জামান বাড়ির পাশ দিয়ে হায়বাতপুর নওয়াবেঁকী সড়কের পাশ্ববর্তী খালে পতিত হয়েছে। পানি নিষ্কাষনের জন্য এই খালটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই খালটি দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল। শ্যামনগর সদরের চেয়ারম্যান এড. এস এম জহুরুল হায়দার (বাবু) দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হওয়ার পর শ্যামনগর সদরে পানি নিষ্কাষনের জন্য সুদুরপ্রসারি পরিকল্পনা করেন এবং বাস্তবায়নের কাজে মনোনিবেশ করেন। প্রতিবছর শ্যামনগরের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে আমন মৌসুমে ফসলের ব্যপক ক্ষতিসাধন হয়। অত্র এলাকায় যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বজনপ্রীতি, বন্ধুত্বের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ব্যাক্তি আদর্শের উপর নির্ভর করে খালটি খনন কার্যক্রম শুরু করেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান এড. এস এম জহুরুল হায়দার (বাবু)।

শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম আকবর কবীর ও নকিপুর হরিচরন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক রবিন্দ্রনাথ বিশ্বাস ওরফে ভোলা মাষ্টারের বাড়ির পার্শে সীমানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষক রবীন্দ্র বিশ্বাস অপপ্রচার দিয়ে বলেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি আকবর কবীরের বাড়ির ভিতর দিয়ে খালটি প্রবাহিত হয়েছে এবং ঐ সময় সাংবাদিক আকবর কবীরের সহধর্মিনী অসুস্থ থাকায় ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। যার ফলে খালটির খনন কাজ কিছুদিনের জন্য পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি দ্রুত ঢাকা থেকে বাড়ি আসার পর এসিল্যান্ড অফিসের সরকারি সার্ভেয়ার, শ্যামনগর তহসিল অফিসের নায়েব মোহাম্মদ আলী, সহকারী নায়েব দেবাশিষ মূখার্জীর উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের দুইজন আমীন দ্বারা মাপ জরিপের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘসময়ে পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে মাপ জরিপের পর তারা দেখতে পান শ্যামনগর মৌজায় শিক্ষক রবিন্দ্র বিশ্বাসের দখলকৃত সীমানার মধ্যে ১৩ ফুট খালের জমি রয়েছে। ইতিপূর্বে তিনি বিভিন্ন সময়ে অপপ্রচার দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে জানান সাংবাদিক আকবর কবীরের বাড়ির ভিতর দিয়ে খাল প্রবাহিত হয়েছে, এমন অপপ্রচার দিয়ে খাল খননে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে থাকেন। পরবর্তীতে যখন শিক্ষক রবীন্দ্র বিশ্বাসের সীমানার মধ্যে খালের জায়গা পাওয়া যায় তখন তিনি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে প্রাচীরটি অবৈধভাবে দখলে রাখার চেষ্টা করেন। শিক্ষক রবীন্দ্র বিশ্বাসের মোট রেকর্ডীয় জমির পরিমান ৩৬ শতাংশ কিন্তুু সেখান মাপ জরিপে দেখা যায় তিনি ৩৬ শতাংশ নিজস্ব রেকর্ডীয় জমির পরিবর্তে ৩৯ শতাংশ অর্থাৎ অতিরিক্ত খালের ৩ শতক জমি বেশি ভোগ দখল করে প্রাচীর দিয়ে দখল করে রেখেছেন। যেহেতু শিক্ষক হিসেবে রবীন্দ্র নাথ বিশ্বাসকে চেয়ারম্যান শ্রদ্ধা করেন কিন্তু জনগণের অধিকার রক্ষায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণে চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি আপোষহীন এবং অঙ্গিকারবদ্ধ। উক্ত খালের পাশ দিয়ে জমিদারবাড়ি হতে নকিপুর বাজার পর্যন্ত তিনি একটি বিকল্প রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণসহ নীতি ও আদর্শে অটল থাকায় শ্যামনগরের সর্বস্তরের মানুষ চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন । শিক্ষক রবীন্দ্র বিশ্বাস দীর্ঘদিন পাকা প্রাচীর দিয়ে অবৈধভাবে সরকারি খালের জায়গা গ্রাস করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। অবশেষে আজ সোমবার সকালে সেই পাকা প্রাচীর ভাঙার মধ্য দিয়ে হয়বাতপুর ও নকিপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হল। পাশাপাশি পাকা প্রাচীর ভেঙে সরকারি সম্পত্তি অবমূক্ত করা হল।

সরকারি সম্পত্তি অবমূক্ত করায় শ্যামনগরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শ্যামনগর সদর চেয়ারম্যান ও সাতক্ষীরা নারী শিশু নির্যতন দমন ট্রাইবুনালের পিপি এড. এস এম জহুরুল হায়দার বাবুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদর চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান-“জনগণের স্বার্থরক্ষায় আমি আপোষহীন, সুতারাং প্রবাহমান খালের জায়গা ভোগ দখলকারী ব্যাক্তি যত বড় প্রভাবশালী হোকনা কেন তার সাথে আপোষ নেই। তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন-“এখনও যারা অবৈধভাবে খালের জায়গা দখল করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছেন তারা দ্রুত অবৈধ স্থাপনা নিজ দ্বায়িত্বে সরিয়ে নিয়ে খাল খননে সহযোগিতা করুন। নইলে আইন তার স্বাভাবিক গতিতেই চলবে।