সোমবার | ৬ জুলাই, ২০২০ | ২২ আষাঢ়, ১৪২৭
সময় নিউজ ২৪ > গাইবান্ধা > সংক্রমনের ঝুঁকি নিয়েই করোনা যুদ্ধে গাইবান্ধার পল্লী চিকিৎসকরা

সংক্রমনের ঝুঁকি নিয়েই করোনা যুদ্ধে গাইবান্ধার পল্লী চিকিৎসকরা

সংক্রমনের ঝুঁকি নিয়েই করোনা যুদ্ধে গাইবান্ধার পল্লী চিকিৎসকরা
মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা: করোনার এই মহামারীতে সংক্রমনের ঝুঁকি নিয়েই অদৃশ্য শত্রু করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন
গাইবান্ধার পল্লী চিকিৎসকরা। এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে গ্রাম-গঞ্জ, নগর-বন্দরে।
ঘড়ির কাটায় তখন সকাল ন’টা। দরিদ্র মানুষগুলোকে চিকিৎসা সেবা দিতে প্রতিদিনের মত সোমবারও সুন্দরগঞ্জের সীচা পাঁচপির বাজারের নিজ চেম্বারে বসেন পল্লী চিকিৎসক রবিউল ইসলাম তরু। খোলেন চিকিৎসালয়। ব্যবহৃত চেয়ার-টেবিল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করতেই কাশতে কাশতে আসেন এক বৃদ্ধ মহিলা।
তাকে বসতে বলে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে দোকানের সামনে পানি ছিটিয়ে শুরু হয় তার চিকিৎসা কার্যক্রম।
ততক্ষণে চিকিৎসা নিতে পুরুষ-মহিলা মিলে জরো হয়েছেন বেশ কয়েকজন রোগী। রোগীদের মধ্যে কেউ কেউ এসেছেন জ্বর-সর্দির চিকিৎসা নিতে, কেউ মাথা ব্যথা আবার কেউ কেউ আসছেন পেটের অসুখ নিয়ে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগীর নেই মাস্ক। করোনাকালীন চিকিৎসা সংকটের সময়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এরকম শত শত রোগীর চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসলেও সরকারি-বেসরকারি কোনো ভাবেই পিপিই জোটেনি তার।
জানতে চাইলে পল্লী চিকিৎসক রবিউল ইসলাম
বলেন, ‘গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেশিরভাগই স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন না হওয়ার কারনে আমরা পল্লী চিকিৎসকরা সব চেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছি’। তিনি আরো বলেন, আতঙ্কের এই করোনাকালে সরকারি-বেসরকারি অনেক হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরত দেওয়ার অভিযোগ আছে। কিন্তু তারা আমাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি না থাকাতেও প্রতিনিয়ত আতংক ও স্বাস্থ্যঝুকি নিয়েই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। অর্থসংকটের কারণে পিপিই ক্রয় করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান এই চিকিৎসক।
শুধু রবিউল ইসলামই নন গাইবান্ধা সদর, সাদুল্লাপুর ও গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুরছড়িসহসব উপজেলাতেই একই চিত্র। গাইবান্ধা সদর উপজেলার তিন গাছ তলা এলাকার আরেক পল্লী চিকিৎসক মনো বাবু বলেন, করোনাকালে সকাল-বিকেল দুই বেলা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পিপিই ছাড়া চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বড় বড় ডাক্তাররা সরকারি-বেসরকারি ভাবে পিপিই পান। তাছাড়া তাদের এ্যাসোসিয়েশন আছে সেখান থেকেও পিপিই পান তারা। আমাদেরতো কোনো ভাবে পিপি পাওয়ার ব্যবস্থা নাই। আর আমরা গ্রামের ডাক্তার টাকা দিয়ে পিপিই কেনারো সমর্থও নেই আমাদের। গ্রামের লোকজনদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে নিজেকে এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছেন বলেও জানান তিনি। তার মতো গাইবান্ধার সহস্রাধিক পল্লী চিকিৎসক মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তারা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের অজুহাতে মানুষের সেবা বন্ধ রাখেননি।
চিকিৎসা সেবায় চিকিৎসকদের পিপিই অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, নানা ধরনের রোগব্যাধি এমনকি করোনার উপসর্গ নিয়ে ডাক্তারের শরনাপন্ন হন রোগীরা। শুধু তাইনা পল্লী চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) নিশ্চিত করা না গেলে করোনার এই মহাদূর্যোগে গ্রামীণ চিকিৎসা সেবা সংকটে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
গাইবান্ধায় (২৯জুন) সোমবার এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত  গত ২৪ ঘন্টায় নতুন আক্রান্ত ৬জনসহ মোট করোনা সনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৬১ জন, এর মধ্যে চিকিৎসাধীন ১৬১জন, সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৯১, মৃত হয়েছে ৯জনের।

কমেন্টস

Leave a comment