বৃহস্পতিবার | ২ এপ্রিল, ২০২০ | ১৯ চৈত্র, ১৪২৬
সময় নিউজ ২৪ > দেশ ও জনপদ > কালিগঞ্জে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সমীর রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত

কালিগঞ্জে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সমীর রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত

কালিগঞ্জে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সমীর রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত

ন্যাশনাল ডেস্ক: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সমীর কুমার রায়ের বিরুদ্ধে ধান ক্রয়ে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা রাইচমিল মালিক সমিতির সভাপতি খলিলুর রহমান, সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদসহ ১২ জন্য বৈধ লাইসেন্সধারী মিলারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা ১১ টায় বসন্তপুর খাদ্যগুদামে আনুষ্ঠানিক ভাবে তদন্ত করেন খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহবুবুুর রহমান।
অভিযোগসহ বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সরকার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত কৃষকদের নিকট থেকে ধান ক্রয়ের উদ্দেশ্যে লটারীর মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করেন। শুরুতে লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত কিছু কৃষকের নিকট থেকে ধান ক্রয় করা হলেও পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সমীর কুমার রায় নিজে কৃষকের তালিকা করেন। কৃষকের ভূয়া স্বাক্ষর করে ১৭৩ জন কৃষকের বিপরীতে প্রতিকার্ডে ৩ মেট্রিক টন হারে মোট ৫১৯ মেট্রিক টন ধান খাতাকলমে ক্রয় ও মিলে প্রেরণ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা অর্থবাণিজ্য করেন সমীর কুমার রায়। ওই তালিকার অধিকাংশ কৃষক কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের দেখানো হয় এবং ভূয়া কৃষকের নামের বিপরীতে ভূয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে কৃষ্ণনগর কৃষি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়।
উপজেলার নলতা গ্রামের গোলাম মোড়লের ছেলে ভাড়াশিমলায় অবস্থিত ‘মনি মুক্তা’ রাইসমিলের মালিক আব্দুল গফফারের সহায়তায় এই দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। আরও জানা যায়, মনি মুক্তা রাইস মিলের জন্য ৩০ টন ধান বরাদ্দ করলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মনি মুক্তা রাইস মিলে এখন প্রায় ২০০ মেট্রিক টন ধান মিলিং এর জন্য মিলগুদামে মজুদ করে রেখেছেন যা খাদ্যগুদামে প্রেরণ না করে খাতাকলমে ক্রয়, বিক্রয়/প্রেরণ করা হয়েছে। মিলার আব্দুল গফফার দুর্নীতিবাজ খাদ্যনিয়ন্ত্রক সমীর কুমার রায়ের সহায়তায় শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর খাদ্যগুদামের ধানও মনি মুক্তা রাইসমিলে মজুদ করেছেন। শ্যামনগর উপজেলার মিলগুলোর নামে করাদ্দ করলে সেখানে কোন ধান মিলিং হয়নি। বসন্তপুর খাদ্যগুদাম ও নকিপুর খাদ্যগুদামের বিশাল মজুদ তিনি মনি মুক্তা রাইস মিলের মাধ্যমে পরিচালনা করছেন সে বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক সমীর কুমার রায় ইতোপূর্বে উপজেলার বসন্তপুর খাদ্যগুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ মিলার আব্দুল গফফারের নিকট রেখে শেয়ারে ব্যবসা করে আসছেন। বরিশালের স্থায়ী বাসিন্দা সমীর কুমার রায় নলতা মোবারক নগর এলাকায় ক্রয় করেছেন ৫০ লক্ষাধিক টাকার জমি। সমীর কুমার রায় দেবহাটা উপজেলায় খাদ্য নিয়ন্ত্রক থাকা অবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে পটুয়াখালী জেলায় বদলী হন। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে চাকুরিকালীন সময়ে নারী কেলেঙ্কারীতে পড়ায় সেখান থেকেও তাকে বদলী করা হয়। খুলনা সিএসডিতে থাকাকালী ৬ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের ঘটনায় ধরা পড়ে সর্বশেষ কালিগঞ্জ উপজেলায় বদলী করা হয় তাকে। সমীর কুমার রায়ের স্ত্রী ও সন্তানেরা ভারতের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে দেখার করার জন্য আলাদা পরিচয়ে পাসপোর্ট করে হঠাৎ করে উধাও হয়ে ভারতে চলে যান। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খাদ্য অধিদপ্তরর মহাপরিচালক, দুদক মহাপরিচালক, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খাদ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ ও বন্টন শাখার পরিচালক, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণের প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত তদন্তে অভিযোগকারী ১২ মিলার, ভাড়াশিমলা ইউপি’র ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুল খালেকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য পেশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সমীর কুমার রায়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ থকায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

কমেন্টস

Leave a comment